আমাদের কথা
ওয়ারী বটেশ্বন সভ্যতার পরে অযোদ্ধার রামচন্দ্রের কিছু অনুসারী রায়পুর এলাকায় বসতি স্থাপন করে।চন্তীপাড়ায় চন্দী রাজা বসতি স্থাপন করেন।জনশ্রুতি রয়েছে কৃষ্ণের অনুস্লীগন কৃষ্ণপুরে বসতিস্থাপন করেন।ভারত উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থানের আর্যকর্তৃক বিতারিত অনার্যদের আশ্রায় স্থল হয় মনোহরদী ।এখানকার সংস্কৃতি গড়ে উঠে রাম,শ্রীকৃষ্ণ ও বৈদিক সংস্কৃতির দ্বারা;এক কথায় বলা চলে ধর্ম ভিত্তিক চন্তী রাজা শাহ ইরানী কর্তৃক পরাজিত হলে এখানে ইসলাম ধর্মের উন্মেষ ঘটে।পরবর্তী কালে জৈনপুরের কেরামত আলী ও হাজী শরীয়ত উল্লাহর মাধ্যমে মুসলিম ফূর্ণজাগরনের সংস্কৃতি চালু হয়।মনোহরদী থানা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯০৪ সালে।১৯০৪ সালে মনোহরদীতে পুলিশ থানা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে এ জনপদটি ছিল রায়পুরু থানার অর্ন্তগত। পুরাতান ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকায় অবস্থিত মনোহরদী থানা।এটি একটি সমতল ভূমি অঞ্চল।
সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
মনোহরদী উপজেলার অন্তর্গত গোতাশিয়া শুকুর মাহমুদ উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৯৬২ সালে গোতাশিয়া এলাবাসী কর্তৃক জুনিয়র স্কুল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।বিদ্যালয়টি উপজেলা সদর থেকে মাত্র ১০(দশ) কি.মি. দূরে বেলাব উপজেলা গামী ডিসি পাকা সড়কের উত্তর পার্শ্বে গ্রাম তথা গোতাশিয়া ইউনিয়নের কেন্দ্র স্থলে অবস্থিত।বিদ্যালয়টি চতুর্দিকে প্রাচীর বেষ্টিত এবং এর সামনে ইনডোর খেলার মাঠ এবং পাকা সড়কটির দক্ষিণ পার্শ্বে বিশাল খেলার মাঠ।মাঠের পূর্ব দিকে গোতাশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পশ্চিম দিকে এড.এম,এ মজিদ বিিএম কলেজ ও এড. নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট অবস্থিত।গোতাশিয়া শুকুর মাহমুদ উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে ৮ম শ্রেণি এবং ০১/০১/১৯৬২ ইং থেকে পূর্নাঙ্গ মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে বর্তমান কাল পযর্ন্ত চালু আছে।বিদ্যালয়টি গত ২৬/০৬/১৯৬২ খ্রী. হতে প্রথম এম.পি.ও ভুক্ত হয়।ইহার EIIN:112587,এম.পি.ও কোড নং-3101131301।মনোহরদী উপজেলার অতি প্রাচীন বিদ্যালয় হিসেবে এর ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে।
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে নৈতিক, মানবিক, সাংস্কৃতিক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠাকল্পে শিক্ষার্থীদের মননে, কর্মে ও ব্যবহারিক জীবনে উদ্দীপনা সৃষ্টি করা।মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করে তোলা ও তাদের চিন্তা-চেতনায় দেশাত্ববোধ, জাতীয়তাবোধ এবং তাদের চরিত্রে সুনাগরিকের গুণাবলির যেমন: ন্যায়বোধ, অসাম্প্রদায়িক-চেতনাবোধ, কর্তব্যবোধ, মানবাধিকার সচেতনতা, মুক্তবুদ্ধির চর্চা, শৃঙ্খলা, সৎ জীবনযাপনের মানসিকতা, সৌহার্দ্য, অধ্যবসায় ইত্যাদি বিকাশ ঘটানো। জাতীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারা বিকশিত করে প্রজন্ম পরম্পরায় সঞ্চালনের ব্যবস্থা করা। দেশজ আবহ ও উপাদান সম্পৃক্ততার মাধ্যমে শিক্ষাকে শিক্ষার্থীর চিন্তা-চেতনা ও সৃজনশীলতার উজ্জীবন এবং তার জীবনঘনিষ্ঠ জ্ঞান বিকাশে সহায়তা করা। দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি সাধনের জন্য শিক্ষাকে সৃজনধর্মী, প্রয়োগমুখী ও উৎপাদন সহায়ক করে তোলা; শিক্ষার্থীদেরকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব হিসেবে গড়ে তোলা এবং তাদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলির বিকাশে সহায়তা করা। জাতি, ধর্ম, গোত্র নির্বিশেষে আর্থসামাজিক শ্রেণি-বৈষম্য ও নারী পুরুষ বৈষম্য দূর করা, অসাম্প্রদায়িকতা, বিশ্ব-ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও মানুষে মানুষে সহমর্মিতাবোধ গড়ে তোলা এবং মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তোলা। বৈষম্যহীন সমাজ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে মেধা ও প্রবণতা অনুযায়ী স্থানিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান নির্বিশেষে সকলের জন্য শিক্ষা লাভের সমান সুযোগ-সুবিধা অবারিত করা। শিক্ষাকে মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে পণ্য হিসেবে ব্যবহার না করা। গণতান্ত্রিক চেতনাবোধ বিকাশের জন্য পারস্পরিক মতাদর্শের প্রতি সহনশীল হওয়া এবং জীবনমুখী বস্তনিষ্ঠা ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বিকাশে সহায়তা করা। মুখস্থ বিদ্যার পরিবর্তে বিকশিত চিন্তাশক্তি, কল্পনাশক্তি এবং অনুসন্ধিৎসু মননের অধিকারী হয়ে শিক্ষার্থীরা যাতে প্রতিসত্মরে মানসম্পন্ন প্রামিত্মক যোগ্যতা অর্জন করতে পারে তা নিশ্চিত করা। বিশ্বপরিমন্ডলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ে ও বিষয়ে উচ্চমানের দক্ষতা সৃষ্টি করা। জ্ঞানভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর (ডিজিটাল) বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) এবং সংশিষ্ট অন্যান্য (গণিত, বিজ্ঞান ও ইংরেজি) শিক্ষাকে যথাযথ গুরত্ব প্রদান করা। শিক্ষার্থীদের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনসহ প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশ-সচেতনতা এবং এতদসংক্রান্ত বিষয়ে দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি করা। দেশের আদিবাসীসহ সকল ক্ষুদ্র জাতিসত্তার সংস্কৃতি ও ভাষার বিকাশ ঘটানো। সব ধরনের প্রতিবন্ধীর শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা।
প্রধান শিক্ষক,গোতাশিয়া শুকুর মাহমুদ উচ্চ বিদ্যালয়,মনোহরদী,নরসিংদী।
এম.এ খালেক
প্রধান শিক্ষক